Notification texts go here Contact Us Download Now!
Posts

নববর্ষ উদযাপনে অতিমাত্রায় আতশবাজি ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব - আমির হামজা

 


নববর্ষ উদযাপন অনেকের জন্য একটি আনন্দের সময়, যা আতশবাজি, আলোকসজ্জা, এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। তবে অতিমাত্রায় আতশবাজি ব্যবহারের ফলে পরিবেশ, প্রাণিকুল এবং মানুষের উপর যে বিপুল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। এই সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শব্দ দূষণ

আতশবাজির শব্দ অনেক ক্ষেত্রে ১৪০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারে, যা মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এই উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণ মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জন্য এই শব্দ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।


পরিবেশের ক্ষতি

আতশবাজি ব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। এগুলো বাতাসে মিশে গিয়ে বায়ুদূষণের সৃষ্টি করে, যা শ্বাসজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, আতশবাজির পোড়া অংশ মাটিতে পড়ে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং জলাশয়ে মিশে পানিদূষণ ঘটায়।


পাখি ও প্রাণীদের মৃত্যু


আতশবাজির তীব্র শব্দ এবং আলো পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের মধ্যে ভয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অনেক পাখি আতশবাজির শব্দে দিক হারিয়ে সংঘর্ষে মারা যায়। বন্যপ্রাণী এবং গৃহপালিত প্রাণীরা আতশবাজির আওয়াজে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা শারীরিক ও মানসিক চাপের শিকার হয়।


অগ্নিকাণ্ড এবং দুর্ঘটনা


আতশবাজি ব্যবহারের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়শই ঘটে। বাড়ি-ঘর, বনভূমি এবং অন্যান্য স্থানে আগুন ধরে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়াও, ভুলভাবে আতশবাজি ব্যবহারের কারণে মানুষ গুরুতরভাবে আহত হতে পারে।


সমাধানের পথ

সচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণের মধ্যে আতশবাজির ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।


পরিবেশবান্ধব বিকল্প: আতশবাজির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব আলো এবং ডিজিটাল প্রদর্শনী ব্যবহার করা যেতে পারে।


আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ: আতশবাজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।


সমাজের অংশগ্রহণ: স্থানীয় কমিউনিটি এবং সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

কিছু গবেষণার রিপোর্ট 


নববর্ষ উদ্‌যাপনে অতিরিক্ত আতশবাজি ব্যবহারের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিচে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

বায়ুদূষণ বৃদ্ধি: বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় বায়ুদূষণ গড়ে ১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭-১৮ সালে সর্বোচ্চ দূষণ রেকর্ড করা হয়। 

শব্দদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর কারণে শব্দদূষণ ঘটে, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই শব্দদূষণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

পাখি ও বন্যপ্রাণীর ওপর প্রভাব: আতশবাজির বিকট শব্দ ও উজ্জ্বল আলোর কারণে পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়, যা তাদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া, বন্যপ্রাণী ও গৃহপালিত প্রাণীরাও আতশবাজির আওয়াজে আতঙ্কিত হয়, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: আতশবাজি ও ফানুস উড়ানোর ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। 

পরিবেশের ওপর সামগ্রিক প্রভাব: আতশবাজির ব্যবহারে বায়ু ও শব্দদূষণের পাশাপাশি রাসায়নিক দূষণও ঘটে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ধরনের উদ্‌যাপন পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 



নববর্ষ উদযাপন আমাদের জীবনে আনন্দ এবং নতুনত্ব নিয়ে আসে। তবে এই আনন্দ যেন কারও জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখা উচিত। আতশবাজি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিবেশবান্ধব উদযাপনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃতি এবং প্রাণিজগতের প্রতি দায়িত্বশীল হতে পারি।

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.