নববর্ষ উদযাপন অনেকের জন্য একটি আনন্দের সময়, যা আতশবাজি, আলোকসজ্জা, এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। তবে অতিমাত্রায় আতশবাজি ব্যবহারের ফলে পরিবেশ, প্রাণিকুল এবং মানুষের উপর যে বিপুল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। এই সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
শব্দ দূষণ
আতশবাজির শব্দ অনেক ক্ষেত্রে ১৪০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারে, যা মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এই উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণ মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জন্য এই শব্দ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিবেশের ক্ষতি
আতশবাজি ব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। এগুলো বাতাসে মিশে গিয়ে বায়ুদূষণের সৃষ্টি করে, যা শ্বাসজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, আতশবাজির পোড়া অংশ মাটিতে পড়ে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং জলাশয়ে মিশে পানিদূষণ ঘটায়।
পাখি ও প্রাণীদের মৃত্যু
আতশবাজির তীব্র শব্দ এবং আলো পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের মধ্যে ভয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অনেক পাখি আতশবাজির শব্দে দিক হারিয়ে সংঘর্ষে মারা যায়। বন্যপ্রাণী এবং গৃহপালিত প্রাণীরা আতশবাজির আওয়াজে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা শারীরিক ও মানসিক চাপের শিকার হয়।
অগ্নিকাণ্ড এবং দুর্ঘটনা
আতশবাজি ব্যবহারের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়শই ঘটে। বাড়ি-ঘর, বনভূমি এবং অন্যান্য স্থানে আগুন ধরে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়াও, ভুলভাবে আতশবাজি ব্যবহারের কারণে মানুষ গুরুতরভাবে আহত হতে পারে।
সমাধানের পথ
সচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণের মধ্যে আতশবাজির ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশবান্ধব বিকল্প: আতশবাজির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব আলো এবং ডিজিটাল প্রদর্শনী ব্যবহার করা যেতে পারে।
আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ: আতশবাজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সমাজের অংশগ্রহণ: স্থানীয় কমিউনিটি এবং সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।
কিছু গবেষণার রিপোর্ট
নববর্ষ উদযাপন আমাদের জীবনে আনন্দ এবং নতুনত্ব নিয়ে আসে। তবে এই আনন্দ যেন কারও জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখা উচিত। আতশবাজি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিবেশবান্ধব উদযাপনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃতি এবং প্রাণিজগতের প্রতি দায়িত্বশীল হতে পারি।